ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে দেশের নামীদামি মিডিয়া হাউসগুলোতে এখনো বড় একটি অংশ এনালগ যুগের সাংবাদিক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা, ভিডিও কনটেন্ট, ক্যামেরা পরিচালনা বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে যাদের দক্ষতা প্রায় নেই বললেই চলে—তারাই এখনও অনেক গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
অনেক প্রবীণ সাংবাদিক এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের ডিজিটাল জ্ঞান যেমন—ক্যামেরার ফ্রেম, শর্ট, ভিডিও সম্পাদনা, কিংবা মোবাইলভিত্তিক সাংবাদিকতা বিষয়ে পুরোপুরি অনভিজ্ঞ। অথচ যেসব তরুণ শিক্ষিত প্রজন্ম কম্পিউটার, অ্যান্ড্রয়েড, ভিডিও কনটেন্ট প্রডাকশন ও এডিটিংয়ে দক্ষ, তাদের অনেকেই আবেদন করেও উপেক্ষিত থাকছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অবসরের বয়স পার করেও অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো চাকরি করছেন—নিয়মিত নতুন নিয়োগ না দিয়ে। এতে করে তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না, একই সঙ্গে মিডিয়াগুলোও পিছিয়ে পড়ছে আধুনিক সাংবাদিকতার প্রতিযোগিতায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে গণমাধ্যমকে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেবল অভিজ্ঞতা নয়, ডিজিটাল যুগের চাহিদা অনুযায়ী বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও তরুণদের অন্তর্ভুক্তি ছাড়া গণমাধ্যমের আধুনিকায়ন সম্ভব নয়।
তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ইউটিউব, ফেসবুক, রিলস বা শর্ট ভিডিওর যুগে কাজ করছি। অথচ কিছু বড় মিডিয়ায় এখনো টাইপরাইটার মানসিকতা থেকে বের হয়নি।”
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় মিডিয়া গুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার।