
গাজা থেকে আটক অন্তত চার হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে ইসরাইল ‘বেআইনি যোদ্ধা’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে এবং তাদের কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটকে রেখেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ইসরাইলের গোপন সামরিক তথ্যানুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গণহত্যার পর আটক হওয়া যাদের ‘অবৈধ যোদ্ধা’ বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজনই প্রকৃতপক্ষে যোদ্ধা ছিলেন।
অন্য দিকে আটক হওয়া বাকিদের মধ্যে রয়েছেন- চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ এবং শিশুরা। তাদের আটক করা হয়েছে ‘বেআইনি যোদ্ধা’ আইন ব্যবহার করে, যা কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দী রাখার সুযোগ দেয়।
আটকদের মধ্যে অনেকে কুখ্যাত ইসরাইলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে রয়েছেন, যার মধ্যে স্দে তেইমান সামরিক শিবিরও রয়েছে। সেখানে বন্দীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা মৃত্যুর কারণ হয়েছে ডজনখানেক মানুষের। মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই বন্দিরা ক্ষুধার্ত রাখা, যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ আটক
ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকারের সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী বর্তমানে অন্তত দুই হাজার ৬৬২ জনকে ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে আটক রাখা হয়েছে। এরইমধ্যে তিন হাজারের বেশি বন্দীকে গাজায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরো প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনিকে ফৌজদারি মামলায় আটক রেখেছে ইসরাইল। তবে যথেষ্ট প্রমাণ আছে বলে দাবি করলেও এদের কাউকেই এখনো আদালতে তোলা হয়নি।
পশ্চিমতীরে ব্যাপক গ্রেফতার
অন্য দিকে গাজার বাইরে, অধিকৃত পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেফতার করেছে। মাসে গড়ে ৮০০-এর বেশি গ্রেফতার কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় দমননীতির উদাহরণ। বর্তমানে পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুসালেম থেকে ১১ হাজার ১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত তিন হাজার ৫০০ জন ‘প্রশাসনিক আটক’-এর আওতায় রয়েছেন, যেখানে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দী রাখা হয়।
ইসরাইলি আইনে কোনো ব্যক্তিকে বিচারকের সামনে হাজির করার আগে সর্বোচ্চ ৭৫ দিন আটক রাখা যায় এবং চার মাস পর্যন্ত আইনজীবীর সাথে দেখা করতে দেয়া হয় না। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আটক হওয়া কাউকেই আদালতে তোলা হয়নি। ইসরাইলি সামরিক তথ্যানুযায়ী, মে মাস নাগাদ গাজায় প্রায় ছয় হাজার ফিলিস্তিনি আটক ছিলেন, যাদের মধ্যে মাত্র এক হাজার ৪৫০ জন হামাস বা ইসলামিক জিহাদের সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করা গেছে।